কবিতা

সাকিল আহমেদ

মানবতা চাষ করি

মাঝে মাঝে কবিতার দেওয়াল থেকে ফিরে আসি নিজের বাড়ির জীর্ণ দেওয়ালে। সেখানে কাকা তুয়ারা থাকে কাকার মতন। বউ কথা কও রা থাকে ইস্কাবনের বিবির মতন।
পিঁপড়ে গুলো খুব সুশৃঙ্খলে হাঁটে। কোন খাবার পেলে ভাগ করে খায় তারা। মাথায় করে বয়ে আনে কবিতার নিঝুম শব্দের পান্ডুলিপি।
বাড়িতে তাদের বৃদ্ধ মা বাবা খাবারের অপেক্ষায়।

মাঝে মাঝে কবিতার দেওয়াল থেকে ফিরে আসি ফেসবুকের ওয়ালে। কত মানুষ সেখানে অপেক্ষা করেন আমার তোলা সেলফির জন্যে। সুধাময় মনোরম অনুপম হাসির জন্যে। আমার মুক্ত গদ্যের স্বাধীন পায়রার জন্যে। বুকের দ্রাঘিমা রেখায় এক আন্টারটিকা সাহসের জন্যে।

না বলা কথার ক্রিস্টাল ছুঁড়ে মেরে ছিল যারা তারা আমার বন্ধুত্বের কল্যাণ চায়। আমি এখন নিজেই ষষ্ঠী তৎপুরুষ। অষ্টমীর গীতবিতান।

এখন আমি কল্যাণরাষ্ট্রের মেষ পালক। কবি আর নবী একাকার হয়ে যাই। মেষ রাশির জাতক আমি। ঘাসে মুখ দিয়ে চরি। চরৈবেতি জীবন আমার।
একটি ঘাস তার নবুয়ত প্রাপ্তির আগে ঈশ্বরকে বলেছিল আমি তোমার নগন্য সৃষ্টি। রাধিকার পায়ের মল, লায়লার অশ্রæজলে ভেজা এই মাটির সবুজ তৃণমূল আমরা। গাঙ্গেয় সমভূমিতে বাস আমাদের।

মাঝে মাঝে কবিতার দেওয়াল থেকে ফিরে আসি মানুষের কল্যাণ রাষ্ট্রে… এক অনুপম শক্তিধর বুকের পাটাতন গড়ব বলে ঈশ্বর পাটনী হয়েছি।

পাটলিপুত্রের জিম খানা থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুর শরীর নিয়ে স্বগৃহে জেগে আছি স্বভূমে ঘাসের কোরক হয়ে।

মাঝে মাঝে কবিতার দেওয়াল চুয়ে মোক্ষ চলে আসে।
হে ঈশ্বর আমাকে একটা ভালোবাসার বাগান দাও। আমি মানবতা চাষ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *